ছোট বেলার স্মৃতিগুলি ভাবতেই মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। ইচ্ছে করে, পাখির মত ডানা মেলে উড়ে যাই, জীবনের সেই দিন গুলিতে। কতটা-না আনন্দের দিন জীবন থেকে হারিয়ে ফেললাম।
বিলের মাঠে বন্ধুদের সাথে ছোঁটাছুঁটি, আড্ডা, গান, মাঝে-মধ্যে মান-অভিমান আরো কতনা কি? যাদের সাথে জীবনের অতুলনীয় সেই আনন্দের মুহুর্ত গুলো কাটিয়ে এসেছি, আজ হাজার খুজেও বছর-ছ'মাসে তাদের অনেকেরি দেখা মিলে না।
হইত তখন তাদের মর্ম বুজিনি। তখন ভাবতাম, কখন যে বড় হব। আর এখন জীবনে পরিস্থিত তার ঠিক বিপরীত।। আসলে জীবনটাই এমন। কথাই আছে "লোকে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম দেয় না"। জীবনে বাস্তব অভিজ্ঞতায় এর প্রমাণ যেন হাতে-কলমে পেলাম।
"জীবন" আর "বন্ধুত্ব" এরা একে অন্যের পরিপূরক। জীবনে অনেক বন্ধু এসেছে, আবার অনেকে হারিয়েও গেছে।। অনেকের স্মৃতি জীবনের সাথে মিলে-মিশে একাকার হয়ে গেছে।
তবে জীবনের একটা চরম সত্য এই যে "জীবনে যাকেই ঘনিষ্ট বন্ধু ভেবেছি, সে-ই কম-বেশি বিশ্বাস ঘাতকতা করে গেছে। আর সর্বশেষ যে বন্ধুটিকে জীবনের একটা অংশ বিবেচনা করেছিলাম, সে বিশ্বাস ঘাতকতা সীমাকে অতিক্রম করে, সমগ্র বিশ্বের বন্ধু সমাজকে করেছে কলঙ্কীত। তাই এখন আর কারো সাথে ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব গড়ার আগ্রহ দেখাই না। এখন আমার কাছে ঘনিষ্ট বন্ধু শুধু মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেট। প্রয়োজনের বাইরর যতটুক সময় পাই, তা-ই মোবাইল ও ইন্টারনেটের পিছনে ব্যয় করি।।
জীবনের সব চেয়ে আনন্দের মুহুর্ত, যখন কারো মুখে নিজের কোন গুণ বা দোষের প্রশংসা শুনি। আর সব চেয়ে খারাপ লাগে, যখন কারো উপকার করতে গিয়ে উল্ট তার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াই। অথবা আমার জন্য যদি কেউ মনে কষ্ট পাই। যদিও বা এই দুইটি কার্য আমার দ্বারা জীবনে সর্বাধিক বার সম্প্রাদিত হয়ে এসেছে। সবচেয়ে বেশি বিরক্তি লাগে, কাউকে কৈফিয়ত দিতে এবং রাস্তাই হাঁটার সময় কোন ধীর-গতি সম্পন্ন ব্যাক্তির পিছনে পরলে। আর সবচেয়ে রাগান্বিত হই, যখন কেউ আমার কোন ব্যক্তি-গত বিষয়ে মাথা ঘামায়। অপর-দিকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাই, কাউকে বাঁশ দিতে। এই কাজটি করতে কখনোই ভূল করি। সুযোগ পেলেই যে-কাউকে ভাল মতনই বাঁশ দিয়ে ছাড়ি।
আর একটা বদ-অভ্যাস, নিজের জেদটাকে সবচেয়ে বড় করে দেখা।।
নিজের সম্পর্কে অনেক কিছুই লিখার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু লিখতে বসে সবকিছু যেন গুলিয়ে ফেললাম। যতটুক মাথাই ছিল, নিজের মত করে সাজিয়ে লিখার চেষ্টা করলাম।