ছেলে বেলায় হাজারও ছোট-বড় স্বপ্ন মনের মাঝে খেলা করত।
কখনো স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে ডাক্টার হবার। আবার কখনো বা ইঞ্জিনিয়ার। মাঝে-মধ্যে পাইলট হয়ে আকাশে ও উড়তাম।
প্রাইমারি স্কুল জীবনের একটা ঘটনা এখনো আমার স্মরণে আছে। এক শিক্ষিকা আমার ভবিষ্যৎতের লক্ষ্য জানতে চাওয়ায় উত্তরে উনাকে ডাক্টার হবাই ইচ্ছা প্রকাশ করি। পরবর্তীতে উনার এক ক্লাসের পড়া দিতে না-পারায়, উনি এর জন্য আমাকে অনেক উপহাস করেছিলেন। তখনই মনে মনে সংকল্প গরি, ডাক্টার হয়ে উনাকে দেখিয়ে দিব। তারই ভিত্তিতে খুব জোরে সোরে পড়া-লেখা শুরু করে দিলাম। কিন্তু কথাই আছে "মল্লার দৌঁড় মসজিদ পর্যন্ত।" আমার দৌঁড় ও ততটুক ছিল। পরিস্থিত আমাকে এই সংকল্প ত্যাগ করতে বাধ্য করল।
পরবর্তীতে এসে সংঙ্গীত প্রতি কিছুটা আকৃষ্ট হয়ে পরি। তাই স্থির করি, সংঙ্গীত শিল্পী হলে মন্দ হয় না। পরিবার কতৃক সমর্থন পাওয়ায় নেমে পরলাম সংঙ্গীত সাধনায়। কিন্তু তাতেও ব্যার্থ হল। বেশ কিছুদিন সংঙ্গীতচর্চায় পর সংঙ্গীতকে জীবন থেকে গুড-বাই জানিয়ে পুনরাই বাস্তব জীবনে ফিরে আসি।
এরপর মনের মধ্যে ইচ্ছা জাগে, ক্রিকেটার হওয়ার। কিন্তু পরিবারে সমর্থনের অভাবে তারও বাস্তবায়ন হয়নি।
পরবর্তীতে স্বপ্ন জগৎ থেকে বেরিয়া বাস্তব জীবনে পড়া-লেখার প্রতি মনযোগী হয়ে পড়লাম। কোনো রকম এস,এস,সি পরীক্ষাই উত্তীন্ন হয়ে কলেজ জীবনে পদার্পন করলাম।
তখনি ঘটল জীবনের আরেক আমল পরিবর্তন। ধর্মের প্রতি অগাত বিশ্বাস জন্মে গেল মনে। তখনি মনে বাসনা জেগে বসে ধর্মের পথকে অনুসরণ করার। তাই ধর্মের অজানা সব রহস্য খুজে বের করতে লাগলাম। কিন্তু একপর্যায়ে এসে ধর্মের কোনো কুল-কিনারাই খুজে পেলাম না। তখনি উপলদ্ধি করলাম ধর্মের বাস্তব কোন ভিত্তিই নেই। তখন থেকেই ধর্ম বিশ্বাস মন থেকে সম্পূর্ন বিলীন হয়ে গেল।
পূনরাই ফিরে আসি বাস্তব জীবনে। এইচ,এস,সি পাশের পর স্বপ্ন ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু সে স্বপ্ন ও সার্থক হল না। ছোটো কাকার ইচ্ছা ছিল, যেন কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে এল,এল,বি করি। কিন্তু কেন যেন সে-দিন উনার স্বপ্নটাকে অবহেলা করেছিলাম। তার পরিনাম স্বরূপ আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাস কাটছি।
এখন আমার কাছে লেখাপড়া মানেই শুধু পরীক্ষাই পাশ করা। এখন আর নতুন করে কোন স্বপ্ন দেখিনা বা দেখতে চাইনা।
নিজের জীবনটাকে ছেড়ে দিসি ভাগ্যের উপর। ভাগ্যের স্রোতে তরী যে তীরে ভীড়বে, তাকেই জীবন পরম পাওয়া বলে মেনে নিব